(মাক্কি গ্রুপ – প্রথম রাউন্ড)
প্রথম সেগমেন্ট
জ্ঞানের জ্যোতি
প্রশ্ন ১: মোবাইলে কেউ কল করলে যে রিংটোন বা মিউজিক বাজে, সেই মিউজিক শুনলে কি কোনো গুনাহ হবে? আর যদি মোবাইলে মিউজিক ছাড়া অন্য রিংটোন না থাকে, তখন কী করণীয়?
উত্তর: কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মিউজিক শোনার নিয়তে রিংটোন বাজায় বা মোবাইলে লাগায়, তবে সে গুনাগার হবে। কিন্তু যদি সে নিরুপায় হয় এবং কল আসার নোটিফিকেশন জানার জন্য বাধ্য হয়ে মিউজিক রিংটোন রাখে (কারণ অন্য কোনো রিংটোন মোবাইলে নেই), তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে শোনার কারণে গুনাহ হবে না। এটি সম্পূর্ণ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।
রেফারেন্স দেখুন
“ইন্নামাল আ’মালু বিন নিয়্যাত” – সহীহ বুখারী, হাদিস: ০১
প্রশ্ন ২: কখন মাগরিবের নামাজ মাগরিবের সময় পড়লে গুনাহ হবে?
উত্তর: হজ্জের সময় আরাফার দিনে হাজীদের জন্য। কারণ তাদের জন্য শরীয়তের হুকুম হলো, তারা আরাফার ময়দানে মাগরিবের নামাজ পড়বেন না, বরং মুজদালিফায় গিয়ে এশার নামাজের সাথে মিলিয়ে একত্রে আদায় করবেন।
রেফারেন্স দেখুন
সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮ – জাবির (রা.) কর্তৃক বর্ণিত বিদায় হজ্জের হাদিস
প্রশ্ন ৩: ফজরের নামাজ কখন সময়ের প্রথম ভাগে পড়া মুস্তাহাব?
উত্তর: হজ্জের সময় মুজদালিফায় অবস্থানরত হাজী সাহেবগণের জন্য ফজরের নামাজ ওয়াক্তের প্রথম ভাগে পড়া মুস্তাহাব।
রেফারেন্স দেখুন
সহীহ বুখারী, হাদিস: ১৬৭৪
প্রশ্ন ৪: কোন নামাজ সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত অথবা সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার (মাকরুহ) সময়ও পড়া বৈধ?
উত্তর: জানাজার নামাজ। যদি ওই মাকরুহ সময়েই মাইয়্যিতের লাশ উপস্থিত হয়, তবে মাইয়্যিতের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দেরি না করে ওই সময়েই জানাজার নামাজ পড়া বৈধ।
রেফারেন্স দেখুন
ফিকহী মাসআলা – রদ্দুল মুহতার/ফতোয়ায়ে শামী, হানাফী ফিকহ
প্রশ্ন ৫: কোন নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয় কিন্তু তার জন্য কোন আজান এবং ইকামত নেই?
উত্তর: দুই ঈদের নামাজ এবং জানাজার নামাজ।
রেফারেন্স দেখুন
সহীহ বুখারী, হাদিস: ৯৬০
প্রশ্ন ৬: কোন অবস্থায় যেকোনো দিকে মুখ (কিবলা) করে নামাজ পড়া বৈধ?
উত্তর: কাবা শরীফের ভেতরে অথবা কাবা শরীফের ছাদে নামাজ পড়লে। কারণ তখন মুসল্লি সরাসরি কেবলার ভেতরেই অবস্থান করেন।
রেফারেন্স দেখুন
ফিকহী মাসআলা, হিদায়া – কিতাবুস সালাত
প্রশ্ন ৭: রুকু-সেজদা করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ফরজ নামাজ বসে পড়া বৈধ কোন অবস্থায়?
উত্তর: যদি কোনো ব্যক্তি সাওয়ারি বা যানবাহনের (যেমন- নৌকা, জাহাজ, ঘোড়া) ওপর থাকেন এবং দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লে ঢেউ বা অন্য কারণে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, অথবা মাথার ওপর এমন ছাউনি থাকে যার কারণে দাঁড়ানো সম্ভব না হয়, তবে বসে পড়া বৈধ।
রেফারেন্স দেখুন
সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৬ এবং ফিকহী মাসআলা
প্রশ্ন ৮: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, দুই ঈদ এবং জুমার নামাজে কখন সামনের কাতারের চেয়ে শেষ বা পেছনের কাতারে শামিল হওয়া উত্তম?
উত্তর: যদি আশঙ্কা থাকে যে সামনের কাতারে পৌঁছাতে গিয়ে জামাত মিস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তখন জামাত পাওয়ার ফজিলত রক্ষার্থে পেছনের কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা উত্তম।
রেফারেন্স দেখুন
ফিকহী মাসআলা – কিতাবুস সালাত
প্রশ্ন ৯: সেজদায়ে তেলাওয়াতের আয়াতগুলো কোন কোন নামাজে পড়া মাকরুহ?
উত্তর: দুই ঈদ, জুমার নামাজ এবং যে সকল নামাজে চুপে চুপে কেরাত পড়তে হয় (যেমন- যোহর ও আসর), সেই নামাজগুলোতে ইমাম সাহেবের জন্য সেজদার আয়াত পড়া মাকরুহ। কারণ এর ফলে বিশাল জামাতে মুসল্লিদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
রেফারেন্স দেখুন
ফিকহী মাসআলা – ফতোয়ায়ে শামী
প্রশ্ন ১০: কোন নামাজে বড় কেরাত পড়ার চেয়ে ছোট কেরাত পড়া উত্তম?
উত্তর: ফজরের দুই রাকাত সুন্নতে।
রেফারেন্স দেখুন
সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৭২৬
প্রশ্ন ১১: মেরাজের রাতে নবীজি (সা.) বাইতুল্লাহ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে যাওয়ার সময় বোরাক থেকে নেমে কয় জায়গায় নামাজ আদায় করেছেন এবং কোথায় কোথায়?
উত্তর: তিন জায়গায় নামাজ আদায় করেছেন। স্থানগুলো হলো: ১. ইয়াসরিব (মদিনা), ২. তুর-ই-সিনা (হযরত মুসা আ.-এর সাথে সম্পর্কিত স্থান) এবং ৩. হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্মস্থান (বায়তে লাহাম বা বেথলেহেম)।
রেফারেন্স দেখুন
সুনান আন-নাসায়ী, হাদিস: ৪৫০
প্রশ্ন ১২: দুনিয়ার কয়টি জিনিস নবীজি (সা.)-এর কাছে প্রিয় এবং চক্ষু শীতলকারী?
উত্তর: নবীজি (সা.) বলেছেন, “তোমাদের দুনিয়াতে সুগন্ধী এবং নারীকে আমার কাছে প্রিয় করা হয়েছে এবং নামাজকে আমার চক্ষুর শীতলতা করা হয়েছে।”
রেফারেন্স দেখুন
সুনান আন-নাসায়ী, হাদিস: ৩৯৩৯
দ্বিতীয় সেগমেন্ট: এমসিকিউ (MCQ)
প্রশ্ন ১৩: হারবুল ফুজ্জার কত বছর স্থায়ী ছিল? ক) ৩ বছর খ) ৪ বছর গ) ৫ বছর ঘ) ৭ বছর
সঠিক উত্তর: গ) ৫ বছর।
রেফারেন্স দেখুন
সীরাতে ইবনে হিশাম / আর-রাহীকুল মাখতুম
প্রশ্ন ১৪: আনসারগণ খলিফা নির্বাচনের জন্য সর্বপ্রথম কার নাম প্রস্তাব করেন? ক) হযরত আলী (রা.) খ) হযরত আবু বকর (রা.) গ) হযরত ওমর (রা.) ঘ) হযরত সাদ বিন উবাদা (রা.)
সঠিক উত্তর: ঘ) হযরত সাদ বিন উবাদা (রা.)।
রেফারেন্স দেখুন
সহীহ বুখারী, হাদিস: ৬৮৩০
প্রশ্ন ১৫: কোন সূরা শুনে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) নবীজি (সা.)-এর ওফাতের আসন্নতা বুঝতে পেরেছিলেন? ক) সূরা কাউসার খ) সূরা ফালাক গ) সূরা নাসর ঘ) সূরা নাস
সঠিক উত্তর: গ) সূরা নাসর।
রেফারেন্স দেখুন
সহীহ বুখারী, হাদিস: ৪২৯৭, ৪৯৭০
প্রশ্ন १६: বাইয়াতে রিদোয়ান কোন বৃক্ষের নিচে সংঘটিত হয়? ক) বাবলা খ) খেজুর গ) বরুই ঘ) জলপাই
সঠিক উত্তর: ক) বাবলা গাছ।
রেফারেন্স দেখুন
সহীহ বুখারী, হাদিস: ৪১৫২ এবং সূরা আল-ফাতহ: ১৮
প্রশ্ন ১৭: বিশ্বের সর্বপ্রথম লিখিত শাসনতন্ত্র কোনটি? ক) ম্যাগনাকার্টা আইন খ) মদিনার সনদ গ) রোমান আইন ঘ) হাম্বুরাবির আইন
সঠিক উত্তর: খ) মদিনার সনদ।
রেফারেন্স দেখুন
সীরাতে ইবনে হিশাম
প্রশ্ন ১৮: সর্বপ্রথম কার গায়েবানা জানাজা আদায় করা হয়? ক) কিসরার বাদশাহ পারভেজ খ) রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস গ) আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাশী ঘ) মিশরের শাসক মুকাউকিস
সঠিক উত্তর: গ) আবিসিনিয়ার সম্রাট নাজ্জাশী।
রেফারেন্স দেখুন
সহীহ বুখারী, হাদিস: ১৩৩৩
তৃতীয় সেগমেন্ট: মদিনার সুর (নোট: এই সেগমেন্টে প্রতিযোগীদের একটি সুর শোনানো হয় এবং তাদের পরবর্তী চরণসহ গজল/নাতটি শনাক্ত করতে হয়)
প্রশ্ন ১৯: “আজও কেন বিলম্ব মোর দয়াল নবীর জিয়ারত…” – এর পরের লাইন কী?
উত্তর: “…গেলে বুঝবি মদিনাটা আসলে জান্নাত।”
প্রশ্ন ২০: “আল্লাহর প্রিয় হাবিব…” – এই নাতটির পরবর্তী অংশ কী?
উত্তর: “…পাপিনী কণ্টকবিহীন একটি গোলাপ।”
প্রশ্ন ২১: “আমার মরণ আসিবে কখন কেউ তো জানে না…” – এর পরের লাইন কী?
উত্তর: “…আমি মরে গেলে আমায় তোমরা ভুইলা যাইও না।”
প্রশ্ন ২২: “নবীর দরবারের কোন নাইরে তুলনা…” – এর পরের লাইন কী?
উত্তর: “…যে দরবারে আদব শিক্ষা দিলেন রাব্বানা।”
প্রশ্ন ২৩: “আমি নবীজির পাগল, আমি মদিনার পাগল…” – এর পরের লাইন কী?
উত্তর: “…মদিনার ধুলবালি মোর নয়নের কাজল।”
প্রশ্ন ২৪: “সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালাতুল্লাহ…” – এটি কোন নাতের সুর?
উত্তর: এটি বহুল পরিচিত আরবি নাত “সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ / সালাতুল্লাহ সালামুল্লাহ” এর সুর।