পরিশুদ্ধ দৈনন্দিন দু‘আ ও আমলের সমাহার (ফযীলতসহ)

১. তওবা ও ইস্তিগফারের দু‘আ

সাইয়িদুল ইস্তিগফার (তওবার শ্রেষ্ঠ দু‘আ): আরবী: اَللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَىٰ عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِيْ، فَاغْفِرْ لِيْ فَإِنَّهٗ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতা রব্বি, লা-ইলা-হা ইল্লা আনতা খালাকতানি, ওয়া আনা ‘আব্দুকা, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহ্দিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাস্তাতা‘তু; আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি মা সানা‘তু, আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযাম্বি, ফাগফির লী ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রতিপালক, আপনি ছাড়া কোনো সত্য মা‘বুদ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা, আমি আমার সাধ্যমতো আপনার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনি আমার উপর আপনার যে নি‘আমত দিয়েছেন তা স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি; সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, কারণ আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার আর কেউ নেই। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬৩০৬। ফযীলত: যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সকালে এটি পড়ে এবং ওই দিন সন্ধ্যার আগে মারা যায়, অথবা সন্ধ্যায় পড়ে ওই রাতে সকাল হওয়ার আগে মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

সংক্ষিপ্ত ইস্তিগফার (সাধারণ): আরবী: أَسْتَغْفِرُ اللهَ (সালাতের পর ৩ বার পড়ার জন্য)। বাংলা উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লা-হ। বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৫৯১।

সংক্ষিপ্ত ইস্তিগফার (তাওবাসহ): আরবী: أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ। বাংলা উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লা-হা ওয়া আতূবু ইলাইহি। বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর দিকে ফিরে আসি। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৭০২। ফযীলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিদিন ১০০ বার এটি পড়তেন। এটি গুনাহ মাফের বড় মাধ্যম।

বড় ইস্তিগফার: আরবী: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ। বাংলা উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলাইহি। বাংলা অর্থ: আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী এবং আমি তাঁর দিকেই ফিরে যাচ্ছি। রেফারেন্স: আবু দাউদ, হাদীস: ১৫১৭। ফযীলত: এই দুয়া পড়লে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালানোর মতো কবিরা গুনাহও মাফ হয়ে যায়।

দু‘আ ইউনুস (আ.): আরবী: لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِيْنَ। বাংলা উচ্চারণ: লা-ইলা-হা ইল্লা আনতা সুবহা-নাকা ইন্নী কুনতু মিনায্ যা-লিমীন। বাংলা অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র মহান, নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত। রেফারেন্স: সূরা আম্বিয়া, ২১:৮৭; তিরমিযী, হাদীস: ৩৫০৫ (সহীহ)। ফযীলত: যে কোনো বিপদে পড়লে এই দু‘আ পড়লে আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দেন এবং বিপদ দূর করেন।

২. আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও ঈমান বৃদ্ধির দু‘আ

যথেষ্টতা ও ভরসার দু‘আ: আরবী: حَسْبِيَ اللهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ। বাংলা উচ্চারণ: হাসবিয়াল্লা-হু লা-ইলা-হা ইল্লা হুয়া, ‘আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়া হুয়া রব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম। বাংলা অর্থ: আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আমি তাঁর উপরই ভরসা করি এবং তিনি মহান আরশের প্রতিপালক। রেফারেন্স: সূরা তাওবা, ৯:১২৯; সহীহ বুখারী, ৪৫৬৩। ফযীলত: যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা ৭ বার এটি পড়বে, আল্লাহ তার দুনিয়া ও আখিরাতের সকল চিন্তার জন্য যথেষ্ট হবেন।

অন্তর স্থিরতার দু‘আ: আরবী: رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوْبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَّدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ। বাংলা উচ্চারণ: রব্বানা- লা তুযিগ কুলূবানা- বা‘দা ইয হাদাইতানা- ওয়া হাব লানা- মিল্লাদুংকা রাহমাতান, ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহা-ব। বাংলা অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের পথ দেখানোর পর আমাদের অন্তর বাঁকা করো না এবং তোমার কাছ থেকে আমাদের রহমত দান করো; নিশ্চয়ই তুমি মহাদাতা। রেফারেন্স: সূরা আলে ইমরান, ৩:৮।

তাওয়াক্কুল ও সন্তুষ্টির দু‘আ: আরবী: رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا। বাংলা উচ্চারণ: রদ্বীতু বিল্লাহি রব্বান, ওয়া বিল-ইসলামি দ্বীনান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যা। বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট। রেফারেন্স: আবু দাউদ, হাদীস: ৫০৭২। ফযীলত: যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় এটি পড়বে, আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করবেন এবং জান্নাত তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে।

৩. শিরক, কুফুরি ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার দু‘আ

জেনে-বুঝে ও অজান্তে শিরক থেকে বাঁচার দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আ‘লামু, ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা-লা- আ‘লাম। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি জেনেশুনে তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার আশ্রয় চাই এবং অজানায় হয়ে যাওয়ার জন্য তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। রেফারেন্স: সহীহ আদাবুল মুফরাদ, ৭১৬; সহীহ আত-তারগীব ১/১৯।

কুফরি বাক্য ও শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার দু‘আ: আরবী: رَبِّ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ، وَأَعُوْذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَّحْضُرُوْنِ। বাংলা উচ্চারণ: রব্বি আ‘ঊযু বিকা মিন হামাযা-তিশ শায়াত্বীন, ওয়া আ‘ঊযু বিকা রব্বি আইঁ ইয়াহদুরূন। বাংলা অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে তোমার আশ্রয় চাই এবং তারা আমার কাছে উপস্থিত হওয়া থেকেও আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: সূরা মুমিনূন, ২৩:৯৭-৯৮।

শয়তানের প্ররোচনা থেকে আশ্রয়ের দু‘আ: আরবী: أَعُوْذُ بِاللهِ السَّمِيْعِ الْعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ، مِنْ هَمْزِهٖ وَنَفْخِهٖ وَنَفْثِهٖ। বাংলা উচ্চারণ: আ‘ঊযু বিল্লা-হিস্ সামী‘ইল ‘আলীমি মিনাশ শাইত্ব-নির রাজীম, মিন হামযিহী ওয়া নাফখিহী ওয়া নাফসিহী। বাংলা অর্থ: আমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তানের ক্ষতি, অহঙ্কার ও কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, হাদীস: ৭৬৪; সহীহ।

৪. আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের দু‘আ

আরবী: اَللّٰهُمَّ أَعِنِّيْ عَلَىٰ ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আ‘ইন্নী ‘আলা যিকরিকা, ওয়া শুক্রিকা, ওয়া হুসনি ‘ইবা-দাতিক। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার স্মরণে, তোমার কৃতজ্ঞতায় এবং উত্তম ইবাদতে আমাকে সাহায্য করো। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ১৫২২; সহীহ ইবনে হিব্বান (সহীহ)।

৫. ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার দু‘আ

ঘুমাতে যাওয়ার আগে: আরবী: بِاسْمِكَ اَللّٰهُمَّ أَمُوْتُ وَأَحْيَا। বাংলা উচ্চারণ: বিসমিকা আল্লা-হুম্মা আমূতু ওয়া আহইয়া। বাংলা অর্থ: আপনার নামে, হে আল্লাহ! আমি মরি ও বাঁচি। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬৩২৪।

ঘুম থেকে ওঠার পর: আরবী: اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ। বাংলা উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহইয়া-না- বা‘দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন নুশূর। বাংলা অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের মৃত করার পর আবার জীবন দান করেছেন; আর তাঁরই কাছে পুনরুত্থান। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬৩১২।

ঘুমে ভয় পেলে বা দুঃস্বপ্ন দেখলে: আরবী: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهٖ وَشَرِّ عِبَادِهٖ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ وَأَنْ يَّحْضُرُوْنِ। বাংলা উচ্চারণ: আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তাম্মা-তি মিন গাদাবিহী ওয়া শাররি ‘ইবা-দিহী ওয়া মিন হামাযা-তিশ শায়াত্বীনি ওয়া আইঁ ইয়াহদুরূন। বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর গজব, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা ও তাদের উপস্থিতি থেকে আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, হাদীস: ৩৮৯৩; সহীহ।

৬. ওজু ও পবিত্রতার দু‘আ

ওজু শুরু করার আগে: আরবী: بِسْمِ اللهِ। বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি। বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামে। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, হাদীস: ১০১; সহীহ। ফযীলত: “বিসমিল্লাহ” বলে ওজু করাই সুন্নত।

ওজু শেষ করার পর (শাহাদাতের বাক্য): আরবী: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ। বাংলা উচ্চারণ: আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহু ওয়া রাসূলুহ। বাংলা অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মা‘বুদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই; এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৩৪। ফযীলত: যে ব্যক্তি এটি পড়বে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেওয়া হবে এবং যে কোনো দরজা দিয়ে সে প্রবেশ করতে পারবে।

৭. বাথরুমে প্রবেশের আগে ও বের হওয়ার পরের দু‘আ

প্রবেশের আগে: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবা-ইস। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি পুরুষ ও নারী শয়তান থেকে আপনার আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদীস: ১৪২।

বের হওয়ার পর: আরবী: غُفْرَانَكَ। বাংলা উচ্চারণ: গুফরা-নাকা। বাংলা অর্থ: (হে আল্লাহ!) আপনার ক্ষমা চাই। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ৩০; সহীহ।

৮. খাওয়া শুরু, মাঝে ও শেষের দু‘আ

খাওয়া শুরুতে: আরবী: بِسْمِ اللهِ। বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি। বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামে।

শুরুতে ভুলে গেলে (মাঝপথে স্মরণ হলে): আরবী: بِسْمِ اللهِ أَوَّلَهٗ وَآخِرَهٗ। বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি আওওয়ালাহু ওয়া আ-খিরাহ। বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামে, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ৩৭৬৭; তিরমিযী, ১৮৫৮; সহীহ। ফযীলত: শুরুতে “বিসমিল্লাহ” বলতে ভুলে গেলে এই দু‘আ পড়লে শয়তান যা খেয়েছে তা তার পেট থেকে বের হয়ে যায় এবং খাবারে বরকত ফিরে আসে।

খাওয়া শেষে: আরবী: اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَطْعَمَنِيْ هٰذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِّنِّيْ وَلَا قُوَّةٍ। বাংলা উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত‘আমানী হা-যা ওয়া রাযাকানীহি মিন গাইরি হাওলিম মিন্নী ওয়ালা- কুওওয়াহ। বাংলা অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে এ খাদ্য খাওয়ালেন এবং আমার কোনো শক্তি-সামর্থ্য ছাড়াই তা আমাকে রিযিক হিসেবে দান করেছেন। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ৪০২৩; তিরমিযী, ৩৪৫৮; হাসান। ফযীলত: এই দু‘আ পড়লে তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

৯. কাপড় পরিধান ও খোলার সময়ের দু‘আ

পরিধানের সময়: আরবী: اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ كَسَانِيْ هٰذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِّنِّيْ وَلَا قُوَّةٍ। বাংলা উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী কাসা-নী হা-যা ওয়া রাযাকানীহি মিন গাইরি হাওলিম মিন্নী ওয়ালা- কুওওয়াহ। বাংলা অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে এ কাপড় পরালেন এবং আমার কোনো শক্তি-সামর্থ্য ছাড়াই তা দান করলেন। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ৪০২৩।

কাপড় খোলার সময়: আরবী: بِسْمِ اللهِ। বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি। বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামে। রেফারেন্স: তিরমিযী, ৬০৬। ফযীলত: “বিসমিল্লাহ” বলে কাপড় খুললে জিনদের চোখ ও মানুষের লজ্জাস্থানের মাঝে পর্দা পড়ে যায়।

১০. আয়না দেখার দু‘আ

আরবী: اَللّٰهُمَّ أَنْتَ حَسَّنْتَ خَلْقِيْ فَحَسِّنْ خُلُقِيْ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতা হাসসানতা খালকী ফাহাসসিন খুলুকী। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি যেমন আমার দৈহিক গঠন সুন্দর করেছেন, তেমনি আমার চরিত্রও সুন্দর করুন। রেফারেন্স: সহীহ ইবনে হিব্বান, ৫৪৭২; সহীহ।

১১. ঘরে প্রবেশ ও বের হওয়ার দু‘আ

প্রবেশের সময়: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ خَيْرَ الْمَوْلِجِ وَخَيْرَ الْمَخْرَجِ، بِسْمِ اللهِ وَلَجْنَا وَعَلَى اللهِ رَبِّنَا تَوَكَّلْنَا। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাল মাওলিজি ওয়া খাইরাল মাখরাজি, বিসমিল্লা-হি ওয়ালাজনা- ওয়া ‘আলাল্লা-হি রব্বিনা- তাওয়াক্কালনা-। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উত্তম প্রবেশ ও উত্তম নির্গমনের প্রার্থনা করি। আল্লাহর নামে আমরা প্রবেশ করলাম এবং আল্লাহর উপরেই ভরসা করলাম। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ৫০৯৬; সহীহ।

বের হওয়ার সময়: আরবী: بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ। বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি তাওয়াক্কালতু ‘আলাল্লা-হ, লা-হাওলা ওয়ালা- কুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লা-হ। বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামে (বের হলাম), আল্লাহর উপর ভরসা করলাম; আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো পাপ থেকে বাঁচার শক্তি ও পুণ্যের ক্ষমতা নেই। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ৫০৯৫; তিরমিযী, ৩৪২৬; সহীহ।

১২. সিঁড়ি দিয়ে ওঠা ও নামার যিকির এবং চলাচলের যিকির

সিঁড়িতে ওঠার সময়: আরবী: اَللهُ أَكْبَرُ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হু আকবার। বাংলা অর্থ: আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

সিঁড়ি দিয়ে নামার সময়: আরবী: سُبْحَانَ اللهِ। বাংলা উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লা-হ। বাংলা অর্থ: আল্লাহ পবিত্র। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ২৯৯৩।

রাস্তা বা বাজারে চলাচলের যিকির: আরবী: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ। বাংলা উচ্চারণ: লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়া হুয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর। বাংলা অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মা‘বুদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই; সার্বভৌমত্ব ও প্রশংসা তাঁরই, তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, ২৬৯২। ফযীলত: এটি চলাচলের সময় সর্বোত্তম যিকির। এই যিকিরের বিনিময়ে রয়েছে অসংখ্য নেকি।

১৩. বাজার বা শপিংমলে প্রবেশের দু‘আ

আরবী: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ حَيٌّ لَا يَمُوْتُ، بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ। বাংলা উচ্চারণ: লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু ওয়া হুয়া হাইয়ুল লা- ইয়ামূতু, বিইয়াদিহিল খাইরু ওয়া হুয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর। বাংলা অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই; রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, তিনি চিরঞ্জীব, কখনো মারা যান না; তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ, আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। রেফারেন্স: তিরমিযী, ৩৪২৮; সহীহ। ফযীলত: যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে এটি পড়বে, আল্লাহ তাকে দশ লাখ নেকি দান করবেন, দশ লাখ গুনাহ মাফ করবেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।

১৪. মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার দু‘আ

প্রবেশের সময়: আরবী: اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِيْ أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মাফ তাহলী আবওয়া-বা রাহমাতিক। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাগুলো খুলে দাও। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, ৭১৩।

বের হওয়ার সময়: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদলিক। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, ৭১৩।

১৫. আযানের জবাব ও আযান পরবর্তী দু‘আ

আযানের জবাব দেওয়া: পদ্ধতি: মুয়াজ্জিন যা বলেন, ঠিক তা-ই বলবে। শুধু “হাইয়া ‘আলাস্ সালাহ” ও “হাইয়া ‘আলাল ফালাহ”-এর জবাবে “লা-হাওলা ওয়ালা- কুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লা-হ” বলবে। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ৬১১।

আযান শেষে দরূদ ও ওসিলা প্রার্থনা: আরবী: اَللّٰهُمَّ رَبَّ هٰذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيْلَةَ وَالْفَضِيْلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَّحْمُوْدًا الَّذِيْ وَعَدْتَّهٗ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা রব্বা হা-যিহিদ্ দা‘ওয়াতিত্ তাম্মাহ, ওয়াস্ সালা-তিল ক্বা-ইমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফাদ্বীলাহ, ওয়াব‘আছহু মাক্ব-মাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়া‘আত্তাহ। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! এই পূর্ণাঙ্গ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের প্রতিপালক! মুহাম্মাদ (সা.)-কে ওয়াসিলা (জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান) ও মর্যাদা দান করো এবং তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে (মাকামে মাহমুদ) পৌঁছে দাও, যার প্রতিশ্রুতি তুমি দিয়েছ। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ৬১৪। ফযীলত: এটি পড়লে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুপারিশ কিয়ামতের দিন ওই ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব হয়ে যায়।

১৬. নামাযের ভিতরের দু‘আসমূহ

ছানা (নামাযের শুরুতে): আরবী: سُبْحَانَكَ اَللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالٰى جَدُّكَ، وَلَا إِلٰهَ غَيْرُكَ। বাংলা উচ্চারণ: সুবহা-নাকা আল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবা-রাকাসমুকা, ওয়া তা‘আ-লা জাদ্দুকা, ওয়া লা-ইলা-হা গাইরুক। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র, আপনার প্রশংসা; আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সুউচ্চ এবং আপনি ছাড়া কোনো সত্য মা‘বুদ নেই। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ৭৭৫; তিরমিযী, ২৪৩; সহীহ।

রুকুর তাসবীহ: আরবী: سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ। বাংলা উচ্চারণ: সুবহা-না রব্বিয়াল ‘আযীম। বাংলা অর্থ: আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি। (তিন বা ততোধিক বার)।

সিজদার তাসবীহ: আরবী: سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلٰى। বাংলা উচ্চারণ: সুবহা-না রব্বিয়াল আ‘লা। বাংলা অর্থ: আমার মহান সুউচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।

দুই সিজদার মাঝখানের দু‘আ: আরবী: رَبِّ اغْفِرْ لِيْ। বাংলা উচ্চারণ: রব্বিগফির লী। বাংলা অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করো। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ৮৫০; সহীহ।

সালাম ফিরানোর আগের বিশেষ দু‘আ (চারটি বিষয়ে আশ্রয়): আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিন ‘আযা-বি জাহান্নামা, ওয়া মিন ‘আযা-বিল ক্ববর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া- ওয়াল মামা-ত, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের শাস্তি থেকে, কবরের শাস্তি থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিৎনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিৎনার অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ১৩৭৭; সহীহ মুসলিম, ৫৮৮।

১৭. সালাম ফিরানোর পরের আমল ও দু‘আ

সালামের পরপরই: আরবী: اَللهُ أَكْبَرُ (১ বার) – أَسْتَغْفِرُ اللهَ (৩ বার)। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হু আকবার, আসতাগফিরুল্লা-হ। অর্থ: আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সালামের পরের মূল দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আংতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি, আপনার কাছ থেকেই শান্তি; আপনি বরকতময়, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, ৫৯২।

আয়াতুল কুরসী (সূরা বাকারা, ২:২৫৫) – একবার: ফযীলত: যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না।

তাসবীহ-তাহলীল: পদ্ধতি: ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার। শেষে ১ বার: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ। বাংলা উচ্চারণ: লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়া হুয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, ৫৯৭। ফযীলত: এই আমলকারীর সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ গুনাহ থাকলেও মাফ করে দেওয়া হবে।

১৮. লাইলাতুল কদরের রাতের বিশেষ দু‘আ

আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউউন তুহিব্বুল ‘আফওয়া, ফা‘ফু ‘আন্নী। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন। রেফারেন্স: তিরমিযী, ৩৫১৩; সহীহ।

১৯. মোরগের ডাক ও কুকুর-গাধার ডাক শুনলে দু‘আ

মোরগের ডাক শুনলে: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদলিক। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করি। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ৩৩০৩।

কুকুর ও গাধার ডাক শুনলে (রাতে): আরবী: أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ। বাংলা উচ্চারণ: আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্ব-নির রাজীম। বাংলা অর্থ: আমি অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ৩৩০৩।

২০. বদনজর, কালো জাদু ও কুফরি থেকে বাঁচার (এবং ঝাড়ফুকের) দু‘আ

সর্বব্যাধি ও অনিষ্ট থেকে বাঁচার দৈনিক দু‘আ (সকাল-সন্ধ্যা ৩ বার): আরবী: أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ। বাংলা উচ্চারণ: আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তাম্মা-তি মিন শাররি মা- খালাক্ব। বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, ২৭০৯। ফযীলত: এটি পড়লে বিষাক্ত প্রাণীর কামড় বা দংশনও ক্ষতি করতে পারে না।

সকাল-সন্ধ্যায় ক্ষতির হাত থেকে বাঁচার দু‘আ (৩ বার): আরবী: بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهٖ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ। বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা‘আসমিহী শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস সামা-ই, ওয়া হুওয়াস সামী‘উল আলীম। বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না; আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। রেফারেন্স: তিরমিযী, ৩৩৮৮; আবূ দাঊদ, ৫০৮৮; সহীহ। ফযীলত: যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় এটি ৩ বার পড়বে, কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।

রুকইয়া বা ঝাড়ফুকের জন্য (সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস): পদ্ধতি: সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার করে পড়ে হাতে ফুঁ দেওয়া এবং শরীর মোছা। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ৫০১৭।

রোগীর জন্য ঝাড়ফুকের বিশেষ দু‘আ (বদনজর ও জাদুর জন্য): আরবী: بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللَّهُ يَشْفِيكَ। বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরক্বীকা, মিন কুল্লি শাইয়িন ইয়ু’যীকা, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও ‘আইনি হা-সিদিন, আল্লা-হু ইয়াশফীকা। বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামে আমি তোমাকে ফুঁ দিচ্ছি, প্রতিটি কষ্টদায়ক বস্তু থেকে, প্রতিটি আত্মা ও হিংসুকের চোখের অনিষ্ট থেকে; আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, ২১৮৬।

২১. শিশুদের বদনজর, শয়তান ও বিষাক্ত প্রাণী থেকে হেফাজতের দু‘আ আরবী: أُعِيْذُكَ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ، وَّمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَّامَّةٍ (ছেলে শিশুর জন্য)। বাংলা উচ্চারণ: উ‘ঈযুকা বিকালিমা-তিল্লা-হিত তাম্মাহ, মিন কুল্লি শাইত্বনিওঁ ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি ‘আইনিল লাম্মাহ। (মেয়ে শিশুর জন্য: “উ‘ঈযুকি”, দুইজনের জন্য: “উ‘ঈযুকুমা”)। বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমার মাধ্যমে তোমাকে আশ্রয় দিচ্ছি প্রতিটি শয়তান ও বিষাক্ত প্রাণী থেকে এবং প্রতিটি ক্ষতিকর নজর থেকে। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ৩৩৭১। ফযীলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর নাতি হাসান ও হুসাইন (রা.)-কে এই দু‘আর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।

২২. অশ্লীলতা, ফাহেশাত, হিংসা ও খারাপ চরিত্র থেকে বাঁচার দু‘আ খারাপ চরিত্র, মন্দ কাজ ও কুপ্রবৃত্তি থেকে বাঁচার দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلَاقِ وَالأَعْمَالِ وَالْأَهْوَاءِ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিন মুংকারা-তিল আখলা-ক্বি ওয়াল আ‘মা-লি ওয়াল আহওয়া-। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি খারাপ চরিত্র, মন্দ কাজ ও কুপ্রবৃত্তি থেকে আপনার আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: তিরমিযী, ৩৫৯১; সহীহ। ফযীলত: এটি পড়লে খারাপ চরিত্র ও কুপ্রবৃত্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

হিংসা-বিদ্বেষ থেকে বাঁচার দু‘আ: আরবী: رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِيْنَ سَبَقُوْنَا بِالْإِيْمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِيْ قُلُوْبِنَا غِلًّا لِّلَّذِيْنَ آمَنُوْا। বাংলা উচ্চারণ: রব্বানাগফির লানা- ওয়া লি-ইখওয়া-নিনাল্লাযীনা সাবাকূনা- বিল ঈমানি, ওয়ালা- তাজ‘আল ফী কুলূবিনা গিল্লাল লিল্লাযীনা আ-মানূ। বাংলা অর্থ: হে আমাদের প্রভু! আমাদের এবং ঈমানে অগ্রগামী আমাদের ভাইদের ক্ষমা করো, আর ঈমানদারদের প্রতি আমাদের অন্তরে বিদ্বেষ রেখো না। রেফারেন্স: সূরা হাশর, ৫৯:১০। ফযীলত: এই দুয়ার মাধ্যমে মুমিনদের প্রতি অন্তর পরিষ্কার হয়।

দৃষ্টি ও চরিত্র হিফাযতের দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ طَهِّرْ قَلْبِيْ، وَاحْفَظْ فَرْجِيْ، وَغُضَّ بَصَرِيْ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা তাহহির ক্বালবী, ওয়াহফায ফারজী, ওয়া গুদ্দা বাসারী। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমার অন্তর পবিত্র করো, আমার লজ্জাস্থান হিফাযত করো এবং আমার দৃষ্টিকে নত রাখো। ফযীলত: অন্তর পবিত্র হয় এবং চরিত্র হিফাযত হয়।

২৩. বিপদাপদে ধৈর্যধারণ ও প্রতিদান প্রার্থনার দু‘আ আরবী: إِنَّا لِلّٰهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ، اَللّٰهُمَّ أْجُرْنِيْ فِيْ مُصِيْبَتِيْ وَأَخْلِفْ لِيْ خَيْرًا مِّنْهَا। বাংলা উচ্চারণ: ইন্না-লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলাইহি র-জি‘ঊন; আল্লা-হুম্মা’জুরনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লী খাইরাম মিনহা-। বাংলা অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমার মুসিবতে আমাকে প্রতিদান দাও এবং এর চেয়ে উত্তম বিনিময় দান করো। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, ৯১৮। ফযীলত: আল্লাহ বিপদের উত্তম প্রতিদান দেন এবং উত্তম বিনিময় দান করেন।

২৪. ঋণমুক্তি, অলসতা ও দুশ্চিন্তা দূর করার দু‘আ ঋণ, দুশ্চিন্তা ও অক্ষমতা থেকে আশ্রয়ের দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল ‘আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া দালা‘ইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজা-ল। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা, দুঃখ, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণের ভার ও লোকজনের প্রভাব থেকে আপনার আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ৬৩৬৯। ফযীলত: নিয়মিত পড়লে ঋণ, দুশ্চিন্তা ও অলসতা থেকে মুক্তি মেলে।

হালাল রিযিক ও ঋণমুক্তির দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ اكْفِنِيْ بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِيْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মাক ফিনী বিহালা-লিকা ‘আন হার-মিকা, ওয়া আগনিনী বিফাদলিকা ‘আম্মান সিওয়া-ক। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি তোমার হালাল দ্বারা হারাম থেকে আমাকে বাঁচাও এবং নিজ অনুগ্রহে আমাকে তুমি ছাড়া অন্য সবার থেকে অমুখাপেক্ষী করো। রেফারেন্স: তিরমিযী, ৩৫৬৩; হাসান। ফযীলত: পাহাড় পরিমাণ ঋণ থাকলেও আল্লাহ তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন।

অলসতা, দুর্বলতা ও ক্লান্তি দূর করার দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْهَرَمِ وَالْجُبْنِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল ‘আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল হারামি ওয়াল জুবনি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন ‘আযা-বিল ক্ববরি, ওয়া ফিতনাতিল মাহইয়া- ওয়াল মামা-ত। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি অক্ষমতা, অলসতা, বার্ধক্যের দুর্বলতা ও কাপুরুষতা থেকে আপনার আশ্রয় চাই এবং কবরের শাস্তি ও জীবন-মৃত্যুর ফেৎনা থেকেও আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ৬৩৬৭; সহীহ মুসলিম, ২৭০৬। ফযীলত: বার্ধক্যের কষ্ট ও কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

২৫. নবী আইয়ুব (আ.)-এর সুস্থতা চাওয়ার কুরআনিক দু‘আ সূরা আম্বিয়া থেকে: আরবী: رَبَّهٗٓ أَنِّيْ مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِيْنَ। বাংলা উচ্চারণ: রব্বাহু আন্নী মাস্সানিয়াদ্ দুররু ওয়া আনতা আরহামুর রা-হিমীন। বাংলা অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে কষ্ট স্পর্শ করেছে; আর তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। রেফারেন্স: সূরা আম্বিয়া, ২১:৮৩। ফযীলত: কঠিন রোগব্যাধি ও বিপদে পড়লে আল্লাহর রহমতে আরোগ্য লাভ হয়।

সূরা সোয়াদ থেকে: আরবী: أَنِّيْ مَسَّنِيَ الشَّيْطٰنُ بِنُصْبٍ وَّعَذَابٍ। বাংলা উচ্চারণ: আন্নী মাস্সানিয়াশ্ শাইত্বা-নু বিনুসবিওঁ ওয়া ‘আযা-ব। বাংলা অর্থ: নিশ্চয়ই শয়তান আমাকে কষ্ট ও যন্ত্রণায় ফেলেছে। রেফারেন্স: সূরা সোয়াদ, ৩৮:৪১। ফযীলত: শয়তানের প্ররোচনা ও সৃষ্ট কষ্ট থেকে মুক্তি লাভ হয়।

২৬. রোগী দেখতে যাওয়ার ফযীলত ও দু‘আ রোগীর জন্য সাধারণ দু‘আ (৭ বার বা ৩ বার): আরবী: لَا بَأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ। বাংলা উচ্চারণ: লা বা’সা ত্বহূরুন ইনশাআল্লাহ। বাংলা অর্থ: কোনো ক্ষতি নেই, আল্লাহর ইচ্ছায় এটি (রোগ) গুনাহ থেকে পবিত্রকারী হবে। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ৩৬১৬। ফযীলত: রোগীর মানসিক প্রশান্তি ও গুনাহ মাফের কারণ হয়।

রোগীর জন্য শিফার বিশেষ দু‘আ (৭ বার পড়া): আরবী: أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ। বাংলা উচ্চারণ: আসআলুল্লাহাল ‘আযীম, রব্বাল ‘আরশিল ‘আযীম, আইঁ ইয়াশফিয়াক। বাংলা অর্থ: আমি মহান আল্লাহর, মহান আরশের প্রতিপালকের কাছে তোমার আরোগ্য প্রার্থনা করছি। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ৩১০৬; তিরমিযী, ২০৮৩; সহীহ। ফযীলত: কোনো রোগী যদি নির্ধারিত মৃত্যুর সময় না হয়, তবে এই দু‘আ ৭ বার পড়লে আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করবেন।

রোগী দেখতে যাওয়ার ফযীলত: ফযীলত: যে ব্যক্তি কোনো রোগীকে দেখতে যায়, সে ফিরে আসা পর্যন্ত জান্নাতের বাগানে অবস্থান করে এবং ফেরেশতারা তার জন্য দু‘আ করতে থাকেন। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, ২৫৬৮।

২৭. সফরে বের হওয়ার দু‘আ পানি পরিবহনের (নৌকা/জাহাজ) দু‘আ: আরবী: بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا وَمُرْسَاهَا ۚ إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ। বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি মাজরেহা ওয়া মুরসাহা, ইন্না রব্বী লাগাফুরুর রহীম। বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। নিশ্চয়ই আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। রেফারেন্স: সূরা হুদ, ১১:৪১। ফযীলত: নৌযানে বা পানিতে নিরাপদে ভ্রমণের জন্য এই দুয়া পড়া হয়।

যানবাহনে আরোহণের দু‘আ: আরবী: سُبْحٰنَ الَّذِيْ سَخَّرَ لَنَا هٰذَا وَمَا كُنَّا لَهٗ مُقْرِنِيْنَ، وَإِنَّا إِلَىٰ رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ। বাংলা উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লাযী সাখখারা লানা- হা-যা ওয়ামা- কুন্না- লাহু মুকরিনীন, ওয়া ইন্না- ইলা- রব্বিনা- লামুনকালিবূন। বাংলা অর্থ: পবিত্র তিনি যিনি একে আমাদের অধীন করে দিয়েছেন, অথচ আমরা একে বশ করতে সক্ষম ছিলাম না। আর নিশ্চয়ই আমরা আমাদের প্রতিপালকের দিকেই ফিরে যাব। রেফারেন্স: সূরা যুখরুফ, ৪৩:১৩-১৪; সহীহ মুসলিম, ১৩৪২। ফযীলত: সফরের সময় বাহনকে বশীভূত করা এবং আল্লাহর কাছে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার স্মরণ হয়।

২৮. কঠিন কাজ বা দুশ্চিন্তা সহজ হওয়ার দু‘আ আরবী: اللَّهُمَّ لَا سَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا، وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلًا। বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওয়া আংতা তাজ‘আলুল হাযনা ইযা শি’তা সাহলা। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি যা সহজ করে দেন তা ছাড়া কোনো কিছুই সহজ নয়। আর আপনি চাইলে কঠিন বিষয়টিকেও সহজ করে দেন। রেফারেন্স: সহীহ ইবনু হিব্বান, ৯৭৪। ফযীলত: আল্লাহর ইচ্ছায় কঠিন কাজ সহজ হয়ে যায়।

২৯. ভূমিকম্প, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু থেকে বাঁচার দু‘আ ধ্বংস, দুর্ঘটনা ও খারাপ মৃত্যু থেকে আশ্রয়ের দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَدْمِ، وَمِنَ التَّرَدِّي، وَمِنَ الْغَرَقِ، وَالْحَرِقِ، وَالْهَرَمِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ أَنْ يَّتَخَبَّطَنِيَ الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ، وَمِنْ سُوْءِ الْخَاتِمَةِ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল হাদমি, ওয়া মিনাত তারাদ্দী, ওয়া মিনাল গারাক্বি, ওয়াল হারিক্বি, ওয়াল হারামি; ওয়া আ‘ঊযু বিকা আন ইয়াতাখাব্বাত্বানিয়াশ শাইত্ব-নু ‘ইনদাল মাওত, ওয়া মিন সূইল খা-তিমাহ। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় চাই ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া থেকে, উঁচু স্থান থেকে পতিত হওয়া থেকে, ডুবে মরা, আগুনে পোড়া, অতি বার্ধক্যের দুর্বলতা থেকে, মৃত্যুকালে শয়তানের আঘাত থেকে এবং খারাপ পরিণতি থেকে। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ১৫৫২; নাসায়ী; সহীহ। ফযীলত: আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু থেকে আল্লাহর আশ্রয় লাভ হয়।

মহামারী ও কঠিন ব্যাধি থেকে বাঁচার দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ، وَالْجُنُوْنِ، وَالْجُذَامِ، وَسَيِّئِ الْأَسْقَامِ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনূনি, ওয়াল জুযা-মি, ওয়া সাইয়্যিইল আসক্ব-ম। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি শ্বেতরোগ, পাগলামি, কুষ্ঠরোগ ও খারাপ ব্যাধি থেকে আপনার আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ১৫৫৪; সহীহ। ফযীলত: কঠিন ও দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

বজ্রপাত শুনলে: আরবী: سُبْحَانَ الَّذِيْ يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهٖ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيْفَتِهٖ। বাংলা উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লাযী ইউসাব্বিহুর রা‘দু বিহামদিহী ওয়াল মালা-ইকাতু মিন খীফাতিহী। বাংলা অর্থ: পবিত্র সেই সত্তা যাঁর প্রশংসায় বজ্র পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং ফেরেশতাগণও ভয়ে করে। রেফারেন্স: ইমাম মালিক, মুয়াত্তা; সহীহ। ফযীলত: বজ্রপাতের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

ঝড়ো বাতাসের সময়: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا، وَخَيْرَ مَا فِيْهَا، وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهٖ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا فِيْهَا، وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهٖ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া খাইরা মা-ফীহা, ওয়া খাইরা মা- উরসিলাত বিহী, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা-ফীহা, ওয়া শাররি মা- উরসিলাত বিহী। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি এর কল্যাণ, এর মধ্যকার কল্যাণ ও যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ চাই; আর এর অনিষ্ট, এর মধ্যকার অনিষ্ট ও যা নিয়ে প্রেরিত তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, ৮৯৯। ফযীলত: ঝড়ের ধ্বংসাত্মক রূপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং কল্যাণ লাভ হয়।

৩০. ক্ষতিকর জীবজন্তু ও হিংস্র প্রাণী থেকে বাঁচার দু‘আ আরবী: أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ। বাংলা উচ্চারণ: আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তাম্মা-তি মিন শাররি মা- খালাক্ব। বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, ২৭০৯। ফযীলত: এটি পড়লে বিষাক্ত বা হিংস্র প্রাণী কোনো ক্ষতি করতে পারে না।

৩১. মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হওয়া ও ঈমানের ওপর অবিচলতার দু‘আ হে অন্তর পরিবর্তনকারী (ঈমানে অবিচলতার জন্য): আরবী: يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ، ثَبِّتْ قَلْبِيْ عَلَىٰ دِيْنِكَ। বাংলা উচ্চারণ: ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূব, ছাব্বিত ক্বলবী ‘আলা দ্বীনিক। বাংলা অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তোমার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখো। রেফারেন্স: তিরমিযী, ২১৪০; সহীহ। ফযীলত: রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রায়শই এই দু‘আ পড়তেন। এটি মৃত্যুর সময় ঈমান নসিবের অন্যতম মাধ্যম।

মৃত্যুর সময় কালিমার উপর অবিচলতার দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ ثَبِّتْنِيْ عِنْدَ الْمَوْتِ بِلَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা সাব্বিতনী ‘ইনদাল মাওতি বি লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! মৃত্যুর সময় ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর উপর আমাকে অবিচল রাখো। ফযীলত: মৃত্যুর সময় ঈমানের সাথে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগে সাহায্য করে।

কল্যাণকর জীবন ও মৃত্যুর দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ أَحْيِنِيْ مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِّيْ، وَتَوَفَّنِيْ إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِّيْ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আহয়িনী মা- কা-নাতিল হায়া-তু খাইরাল লী, ওয়া তাওয়াফ্ফানী ইযা- কা-নাতিল ওয়াফা-তু খাইরাল লী। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! যতদিন জীবন আমার জন্য কল্যাণকর ততদিন আমাকে জীবিত রাখো, আর যখন মৃত্যু কল্যাণকর তখন আমাকে মৃত্যু দাও। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ৬৩৫১; সহীহ মুসলিম, ২৬৮০। ফযীলত: জীবনের কল্যাণ এবং মৃত্যুর উত্তম ফয়সালার জন্য আল্লাহর উপর ভরসা করা হয়।

৩২. বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তি ও নেক সন্তান লাভের বিশেষ দু‘আ হযরত যাকারিয়া (আ.)-এর দু‘আ (একা না থাকার): আরবী: رَبِّ لَا تَذَرْنِيْ فَرْدًا وَّأَنْتَ خَيْرُ الْوَارِثِيْنَ। বাংলা উচ্চারণ: রব্বি লা- তাযারনী ফারদাওঁ ওয়া আনতা খাইরুল ওয়া-রিসীন। বাংলা অর্থ: হে আমার প্রভু! আমাকে একা রেখো না, তুমিই তো উত্তম ওয়ারিস। রেফারেন্স: সূরা আম্বিয়া, ২১:৮৯। ফযীলত: নিঃসন্তান দম্পতি এই দুয়া পড়লে আল্লাহর রহমতে নেক সন্তান লাভ করেন।

হযরত যাকারিয়া (আ.)-এর দু‘আ (পবিত্র বংশধরের জন্য): আরবী: رَبِّ هَبْ لِيْ مِنْ لَّدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيْعُ الدُّعَاءِ। বাংলা উচ্চারণ: রব্বি হাব লী মিল্লাদুংকা যুররিয়্যাতান ত্বাইয়িবাতান, ইন্নাকা সামী‘উদ দু‘আ-। বাংলা অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তোমার কাছ থেকে পূত-পবিত্র বংশধর দান করো, নিশ্চয়ই তুমি দো‘আ শ্রবণকারী। রেফারেন্স: সূরা আলে ইমরান, ৩:৩৮। ফযীলত: পূত-পবিত্র ও নেককার বংশধর লাভের জন্য এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর দু‘আ (নেক সন্তানের জন্য): আরবী: رَبِّ هَبْ لِيْ مِنَ الصَّالِحِيْنَ। বাংলা উচ্চারণ: রব্বি হাব লী মিনাস্ স-লিহীন। বাংলা অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নেক সন্তান দান করো। রেফারেন্স: সূরা সাফফাত, ৩৭:১০০। ফযীলত: নেক ও সালেহ সন্তান পাওয়ার জন্য এটি উত্তম দুয়া।

৩৩. চক্ষুশীতলকারী স্ত্রী ও দ্বীনদার সন্তান লাভের দু‘আ আরবী: رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَّاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ إِمَامًا। বাংলা উচ্চারণ: রব্বানা- হাব লানা- মিন আয্ওয়া-জিনা- ওয়া যুররিয়্যা-তিনা- কুররাতা আ‘ইউনিওঁ ওয়াজ‘আলনা- লিল মুত্তাকীনা ইমা-মা। বাংলা অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে আমাদের চোখের শীতলতা দান করো এবং মুত্তাকীদের জন্য আমাদের নেতা বানিয়ে দাও। রেফারেন্স: সূরা ফুরকান, ২৫:৭৪। ফযীলত: আদর্শ পরিবার এবং মুত্তাকী বংশধর পাওয়া যায়।

৩৪. বাবা-মায়ের জন্য পাঠ করার বিশেষ দু‘আ দয়া প্রার্থনার দু‘আ: আরবী: رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِيْ صَغِيْرًا। বাংলা উচ্চারণ: রব্বির হামহুমা- কামা- রব্বায়া-নী সাগীরা-। বাংলা অর্থ: হে আমার প্রভু! তাদের প্রতি দয়া করো যেমন তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন। রেফারেন্স: সূরা ইসরা, ১৭:২৪। ফযীলত: পিতা-মাতার উপর আল্লাহর অসীম রহমত বর্ষিত হয়।

ক্ষমা প্রার্থনার দু‘আ: আরবী: رَبَّنَا اغْفِرْ لِيْ وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ يَوْمَ يَقُوْمُ الْحِسَابُ। বাংলা উচ্চারণ: রব্বানাগফির লী ওয়ালিওয়া-লিদাইয়্যা ওয়া লিল মু’মিনীনা ইয়াওমা ইয়াকূমুল হিসা-ব। বাংলা অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! যেদিন হিসাব কায়েম হবে সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে ও মুমিনদের ক্ষমা করে দিও। রেফারেন্স: সূরা ইবরাহীম, ১৪:৪১। ফযীলত: হাশরের দিন পিতা-মাতা এবং মুমিনদের জন্য আল্লাহর ক্ষমা লাভের উপায়।

৩৫. নতুন দম্পতি ও বাসর রাতের (স্বামী-স্ত্রীর) দু‘আ নতুন দম্পতির জন্য বরকতের দু‘আ (উপস্থিত লোকদের): আরবী: بَارَكَ اللهُ لَكَ، وَبَارَكَ عَلَيْكَ، وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِيْ خَيْرٍ। বাংলা উচ্চারণ: বা-রাকাল্লা-হু লাকা, ওয়া বা-রাকা ‘আলাইকা, ওয়া জামা‘আ বাইনাকুমা- ফী খাইর। বাংলা অর্থ: আল্লাহ তোমাকে বরকত দিন, তোমার উপর বরকত নাজিল করুন এবং তোমাদের উভয়কে কল্যাণে একত্রিত রাখুন। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ২১৩০; সহীহ। ফযীলত: নবদম্পতির জীবনে বরকত ও কল্যাণ নেমে আসে।

বাসর রাতে স্বামীর পড়ার দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাহা- ওয়া খাইরা মা- জাবালতাহা- ‘আলাইহি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন শাররিহা- ওয়া শাররি মা- জাবালতাহা- ‘আলাইহি। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এর কল্যাণ ও এর স্বভাবজাত কল্যাণ চাই এবং এর অনিষ্ট ও স্বভাবজাত অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ২১৬০; সহীহ। ফযীলত: দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক স্বভাবের কল্যাণ লাভ হয় এবং অমঙ্গল থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সহবাসের পূর্বের দু‘আ: আরবী: بِسْمِ اللهِ، اَللّٰهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا। বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি, আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ শাইত্ব-না, ওয়া জান্নিবিশ শাইত্ব-না মা- রাযাকতানা-। বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামে; হে আল্লাহ! তুমি আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখো এবং তুমি আমাদের যে সন্তান দান করবে তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখো। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ১৪১; সহীহ মুসলিম, ১৪৩৪। ফযীলত: এই মিলনে সন্তান জন্ম নিলে শয়তান কখনো তার ক্ষতি করতে পারে না।

৩৬. উপকারী জ্ঞান, মেধাশক্তি ও হালাল রিযিকের দু‘আ উপকারী জ্ঞান, হালাল রিযিক ও কবুল আমলের দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَّافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلًا مُّتَقَبَّلًا। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকা ‘ইলমান না-ফি‘আন, ওয়া রিযক্বান ত্বাইয়িবান, ওয়া ‘আমালাম মুতাক্বাব্বালা-। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, হালাল রিযিক ও কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করি। রেফারেন্স: ইবনে মাজাহ, ৯২৫; সহীহ। ফযীলত: ফজর নামাযের পর পড়লে সারা দিনের জন্য হালাল রিযিক, উপকারী জ্ঞান ও আমল কবুলের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়।

জ্ঞান বৃদ্ধির দু‘আ: আরবী: رَّبِّ زِدْنِيْ عِلْمًا। বাংলা উচ্চারণ: রব্বি যিদনী ‘ইলমা-। বাংলা অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও। রেফারেন্স: সূরা ত্বহা, ২০:১১৪। ফযীলত: এটি পড়লে আল্লাহর তরফ থেকে ইলম বা জ্ঞান বৃদ্ধি পায়।

হালাল রিযিকের জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা (মুসা আ.): আরবী: رَبِّ إِنِّيْ لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيْرٌ। বাংলা উচ্চারণ: রব্বি ইন্নী লিমা- আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকীর। বাংলা অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ পাঠাবে, আমি তারই মুখাপেক্ষী। রেফারেন্স: সূরা কাসাস, ২৮:২৪। ফযীলত: বিপদে বা অভাবের সময় এই দুয়া পড়লে আল্লাহ উত্তম রিযিক ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।

৩৭. মেহমান ও মেজবানের জন্য দু‘আ মেজবানের জন্য মেহমানের দু‘আ (খাওয়ানোর পর): আরবী: اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيْمَا رَزَقْتَهُمْ، وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা বা-রিক লাহুম ফীমা- রাযাকতাহুম, ওয়াগফির লাহুম ওয়ারহামহুম। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি তাদের যে রিযিক দিয়েছেন তাতে বরকত দিন, তাদের ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, ২০৪২। ফযীলত: এই দুয়া পড়লে মেজবানের রিযিকে বরকত আসে এবং তার জন্য ক্ষমা ও রহমত বর্ষিত হয়।

রোযাদারের ইফতার ও মেজবানের জন্য ফেরেশতাদের দু‘আ: আরবী: أَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُوْنَ، وَأَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ، وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ। বাংলা উচ্চারণ: আফতারা ‘ইনদাকুমুস স-ইমূন, ওয়া আকালা ত্ব‘আ-মাকুমুল আবরা-র, ওয়া সাল্লাত ‘আলাইকুমুল মালা-ইকাহ। বাংলা অর্থ: তোমাদের নিকট রোযাদারগণ ইফতার করুক, নেক লোকেরা তোমাদের খাদ্য ভক্ষণ করুক এবং ফেরেশতাগণ তোমাদের জন্য দো‘আ করুক। রেফারেন্স: আবূ দাঊদ, ৩৮৫৪; সহীহ। ফযীলত: মেহমান এই দুয়া পড়লে ফেরেশতাগণ মেজবানের জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকেন।

৩৮. কোনো কাজ শুরু করার পূর্বে বরকত ও সহজতার দু‘আ (এবং ইস্তিখারা) শুরুর বরকতের দু‘আ: আরবী: بِسْمِ اللهِ। বাংলা উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হি। বাংলা অর্থ: আল্লাহর নামে। ফযীলত: প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ “বিসমিল্লাহ” বলে শুরু করলে তাতে বরকত হয়।

কাজের সহজতা ও কঠিন সহজ হওয়ার দু‘আ: আরবী: اللَّهُمَّ لَا سَهْلَ إِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا، وَأَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ إِذَا شِئْتَ سَهْلًا। বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওয়া আংতা তাজ‘আলুল হাযনা ইযা শি’তা সাহলা। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি যা সহজ করে দেন তা ছাড়া কোনো কিছুই সহজ নয়। আর আপনি চাইলে কঠিন বিষয়টিকেও সহজ করে দেন। রেফারেন্স: সহীহ ইবনু হিব্বান, ৯৭৪। ফযীলত: আল্লাহর ইচ্ছায় কঠিন কাজ সহজ হয়ে যায়।

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে ইস্তিখারার দু‘আ: পদ্ধতি: দুই রাকাত নফল নামায পড়ে নির্দিষ্ট দু‘আ পড়া। (হাদীসে বর্ণিত দীর্ঘ দু‘আটি পড়তে হবে)। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ১১৬২। ফযীলত: সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য আল্লাহর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।

৩৯. মুসাফাহা (করমর্দন) ও সাক্ষাতের দু‘আ মুসাফাহার নিয়ম ও ফযীলত: দুজন মুসলিম সাক্ষাৎ করে মুসাফাহা করলে হাত আলাদা হওয়ার আগেই তাদের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। (আবু দাউদ, ৫২১২)। মুসাফাহার সময় সালাম বিনিময় করবে। চাইলে এই দু‘আ পড়তে পারে: আরবী: يَغْفِرُ اللهُ لَنَا وَلَكُمْ। বাংলা উচ্চারণ: ইয়াগফিরুল্লা-হু লানা- ওয়া লাকুম। বাংলা অর্থ: আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের ক্ষমা করুন।

৪০. নতুন চাঁদ দেখার দু‘আ আরবী: اَللّٰهُمَّ أَهِلَّهٗ عَلَيْنَا بِالْيُمْنِ وَالْإِيْمَانِ، وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ، رَبِّيْ وَرَبُّكَ اللهُ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আহিল্লাহু ‘আলাইনা- বিল ইউমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালা-মাতি ওয়াল ইসলা-মি; রব্বী ওয়া রব্বুকাল্লা-হ। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! একে আমাদের উপর উদিত করুন বরকত, ঈমান, নিরাপত্তা ও ইসলামের সাথে। (হে চাঁদ!) আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ। রেফারেন্স: তিরমিযী, ৩৪৫১; সহীহ। ফযীলত: নতুন মাসে শান্তি, নিরাপত্তা ও ঈমানের ওপর অবিচলতার জন্য রহমত প্রার্থনা করা হয়।

৪১. দাজ্জাল ও শেষ জামানার ফিতনাহ থেকে বাঁচার দু‘আ প্রত্যেক নামাযে (তাশাহহুদের পর) পড়ার দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিন ‘আযা-বি জাহান্নামা, ওয়া মিন ‘আযা-বিল ক্ববর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া- ওয়াল মামা-ত, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের শাস্তি, কবরের শাস্তি, জীবন-মৃত্যুর ফিৎনা এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিৎনার অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ১৩৭৭; সহীহ মুসলিম, ৫৮৮। ফযীলত: কবরের আযাব এবং দাজ্জালের মত ভয়াবহ ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সংক্ষিপ্ত দাজ্জাল থেকে আশ্রয়ের দু‘আ: আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিন ফিতনাতিদ দাজ্জা-ল। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! দাজ্জালের ফিৎনা থেকে আমি তোমার আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, ৫৯০। ফযীলত: দাজ্জালের ধোঁকা থেকে ঈমান সুরক্ষিত থাকে।

৪২. প্রতিদিনের সকাল-সন্ধ্যার নিয়মিত আমল ও দু‘আ (নির্বাচিত) সাইয়িদুল ইস্তিগফার (১ নং সিরিয়াল দ্রষ্টব্য) – সকাল-সন্ধ্যায় পড়লে জান্নাত ওয়াজিব। যথেষ্টতার দু‘আ: حَسْبِيَ اللهُ (২ নং সিরিয়াল) – সকাল-সন্ধ্যা ৭ বার। তাওয়াক্কুল ও সন্তুষ্টির দু‘আ: رَضِيتُ بِاللهِ (২ নং সিরিয়াল) – সকাল-সন্ধ্যায় পড়লে জান্নাত ওয়াজিব। ক্ষতি থেকে বাঁচার দু‘আ: بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ (২০ নং সিরিয়াল) – সকাল-সন্ধ্যা ৩ বার। আয়াতুল কুরসী ও সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস (৩ বার) – সকাল-সন্ধ্যা ও রাতে ঘুমানোর আগে।

ফজর-মাগরিবের পর ১০ বার তাওহীদের কালেমা: আরবী: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ। বাংলা উচ্চারণ: লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু ওয়া হুয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর। বাংলা অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই; রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। রেফারেন্স: তিরমিযী, ৩৪৭৪; হাসান সহীহ। ফযীলত: এই আমলকারীর জন্য শয়তান থেকে সারাদিনের সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং বিপুল নেকী লাভ হয়।

৪৩. অপচয়, অপব্যয় ও নেয়ামত অস্বীকার থেকে বাঁচার দু‘আ আরবী: اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الإِسْرَافِ وَالتَّبْذِيْرِ، وَمِنْ جُحُوْدِ النِّعَمِ। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল ইসরা-ফি ওয়াত তাবযীরি, ওয়া মিন জুহূদিন নি‘আমি। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি অপচয়, অপব্যয় ও নেয়ামত অস্বীকার করা থেকে আপনার আশ্রয় চাই। রেফারেন্স: মুসনাদে আহমাদ। ফযীলত: অপচয়ের মত শয়তানি কাজ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

৪৪. হাঁচি দেওয়া ও তার জবাবের দু‘আ হাঁচিদাতা: আরবী: اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ। বাংলা উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লা-হ। বাংলা অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। শ্রোতা (জবাব): আরবী: يَرْحَمُكَ اللهُ। বাংলা উচ্চারণ: ইয়ারহামুকাল্লা-হ। বাংলা অর্থ: আল্লাহ তোমাকে রহম করুন। হাঁচিদাতার পুনরায় জবাব: আরবী: يَهْدِيْكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ। বাংলা উচ্চারণ: ইয়াহদীকুমুল্লা-হু ওয়া ইউসলিহু বা-লাকুম। বাংলা অর্থ: আল্লাহ তোমাদের হিদায়াত দিন ও অবস্থা সংশোধন করে দিন। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ৬২২৪। ফযীলত: হাঁচির মাধ্যমে শরীরের ক্ষতিকর বস্তু বের হয়ে যাওয়ার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা হয়।

৪৫. বৃষ্টি শুরু হওয়ার সময়ের দু‘আ আরবী: اَللّٰهُمَّ صَيِّبًا نَّافِعًا। বাংলা উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা সায়্যিবান না-ফি‘আ-। বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! এমন মুষলধারা বৃষ্টি দাও যা উপকারী। রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, ১০৩২। ফযীলত: বৃষ্টির মাধ্যমে যাতে কোনো ক্ষতি না হয় এবং তা কেবলই উপকারী হয়, আল্লাহর কাছে সেই প্রার্থনা করা হয়।